পিএসসি ভবনের সামনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিক্ষোভ, বাতিল হতে পারে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষা

৯ জুলাই, ২০২৪ ১৪:১৬  

গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্মকমিশনের সামনে প্রায় ২ ঘণ্টা অবস্থান নেয়ার পর এ বিষয়ে কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দেন বিক্ষুব্ধরা।

এ সময় সদ্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি বাতিলসহ প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা। এজন্য ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা ‘প্রশ্ন ফাঁসের পরীক্ষা, মানি না মানবো না’, ‘প্রশ্ন ফাঁসের পরীক্ষা, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘রেলের পরীক্ষা, বাতিল চাই বাতিল চাই’ বলে স্লোগান দেন।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান মো. সোহরাব হোসাইন জানিয়েছেন, রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন। তবে প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশ করলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এরইমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অগ্রগতিও জানানো হবে। এছাড়া কমিশনের যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তাদের সাসপেন্ডও করা হবে।

এদিকে গত ১২ বছরে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পিএসসির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অপরদিকে পিএসসি জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখ শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই নিয়ম অনুসরণ করে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে লটারি করে কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে সে বিষয়টি সকাল সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্টদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, কোন সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে তা পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে কারোরই জানার সুযোগ নেই। কমিশনের আওতাভুক্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র সমীক্ষণ ও মুদ্রণ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে করা হয় এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এ সব কারণে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি যেকোনো ব্যক্তির নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে। কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দুদিন পরে চ্যানেল-২৪ কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ কি না, তা নিশ্চিত হবার কোনো সুযোগ নেই।